![]() |
| ছবি সৌজন্য : জয়ীতা রায় |
সচরাচর আমি এসব অনুষ্ঠান এড়িয়েই চলি। নিমন্ত্রণপত্র আসে অনেক। কিন্তু কাজের প্রয়োজন ছাড়া ওপথ মাড়াই না। আমার বন্ধু আর. জে. রিয়া টিজার ক্যাম্পেনের মত গত সপ্তাহ থেকে আমাকে নেমন্তন্ন করছিল দফায় দফায়। দোলাচলে ছিলাম। শেষমেষ হাতে নিমন্ত্রণপত্র পেয়ে সিদ্ধান্ত নিলাম একবার ঘুরেই আসবো। এতবার বলল। সঙ্গে বউকে নিয়ে যেতে পারব ভেবে ভালো লাগলো। আমার 'অসামাজিক' পরিচয়টা বউএর কাছেও ঘোচাবার তাগিদ ছিল। কারণ আমার ঘরমুখো বা ঘরকুনো ইমেজ যাই বলুন না কেন, সেটা আমার বৌএর কাছে অসহ্য হয়ে উঠছিল। বেশ বুঝতে পারছিলাম। তাই এক ঢিলে অনেক পাখি মারার সুযোগটা ছাড়তে চাইছিলাম না। শুধু একটাই চিন্তা ছিল। যদি কোনো কাজ এসে যায়, তাহলেই কেলো। এই অনিশ্চয়তাই আমার 'সামাজিক' হয়ে ওঠার পথে সবচেয়ে বড় বাধা বলেই আমি মনে করি।
যাই হোক সব বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে অনুষ্ঠান শুরুর প্রায় আড়াই ঘন্টা পরে পৌছালাম সায়েন্স সিটিতে। পরিচিত আয়োজকরা রাস্তা বাতলে দিল। লাল কার্পেট ধরে যেতে হবে। চোখ ধাঁধানো আলো চারিদিক থেকে এসে পড়ছে মুখে। চোখ খুলে রাখাই দায়। আলো আর লাল কার্পেট দেখেই মনে পরে গেল যে ভুলটা করেই ফেলেছি। নিমন্ত্রণপত্রের একটি ছোট্ট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশটা উপেক্ষা করে গেছি। লেখা ছিল: পোশাক: গ্ল্যামারাস। লাল কার্পেটের ওপর দিয়ে হেঁটে যেতে হলে যা পোশাক দরকার তা আমার নেইও আর অত 'ফর্মাল' হয়ে আমার কোথাও যেতেও ইচ্ছে করে না। যে কারণে সেনাবাহিনীর ভোজসভাতে যাওয়ার ইচ্ছেই প্রকাশ করি না। লাল কার্পেট পর্যন্ত এসে যখন পড়েছি আর তাও আবার বৌএর হাত ধরে, তখন ফেরার কোনো উপায় নেই। অগত্যা নিজের ভিতরের সমস্ত স্মার্টনেস কে সম্বল করে এগিয়ে চলা আর টুক করে বসে পরা ভিতরে গিয়ে।
এসব অ্যাওয়ার্ড দেওয়ার অনুষ্ঠান সত্যি বলতে কি টিভি ছাড়া অডিটোরিয়াম এ বসে দেখার সৌভাগ্য কখনো আমার হয়নি। আর চারপাশে সেলেব্রিটিদের দেখে ঠিক বুঝতে পারছিলাম না তালে তাল মিলিয়ে কখন ঠিক হাততালি দিতে হবে বা কখন দিতে হবে না। কখন প্রাণ খুলে হাসতে হবে বা শিলাজিতের গানে গলা মেলানো যাবে কিনা। খুব পছন্দের গায়ক বা অভিনেতা-অভিনেত্রীকে দেখে ঠিক কতটা উত্তেজনা প্রকাশ করা উচিত - এসব বোঝা কঠিন। নিজের আসনে বসার কিছুক্ষণের মধ্যেই বুঝে গেলাম যা করার করে ফেলেছি এবার চেপে বসে থাকতে হবে। তবু 'মুখ তো দেখিয়েই দিয়েছি রিয়াকে, এবার বেরিয়ে গেলে হয় না' - প্রস্তাবটি আমার সহধর্মিনীর সামনে রাখতেই ওর মুখের চেহারা বদলে গেল। থমথমে হয়ে উঠলো প্রথমে আর তারপর চাপা অথচ ঝাঁঝালো স্বর নিক্ষেপ। উত্তর এলো, 'তোমার যেতে হলে যাও, আমি পুরো অনুষ্ঠান দেখে একাই ট্যাক্সি নিয়ে বাড়ি চলে যাব। এসেছি যখন মাধুরীকে দেখেই যাব।' এটাই আসল ব্যাপার আর কী। বর চুলোয় যাক, মাধুরীর মধু টপ প্রায়োরিটি। উপায় না দেখে আমার সেই আলতো হাসি মুখে ছুঁইয়ে অনুষ্ঠান উপভোগ করার চেষ্টায় মনোনিবেশ করলাম। ধকধক গার্ল আসুক। তাকে দেখার জন্যই বসে থাকি। অভিজিত রেকর্ডেড গানের সঙ্গে শুধু ঠোঁট নাড়িয়ে চলে গেল। নুসরাত এক জায়গায় দাড়িয়ে কোমর নাড়িয়ে হাত পা ছড়িয়ে নেচে চলে গেল। মাঝে মাঝে পুরস্কার প্রদান। আর শিলাজিত ওটা গান গাইল না মিউজিক্যালি কথা বলে চলে গেল, বুঝতে বুঝতেই ঘন্টা দেড়েক কাটিয়ে দিলাম।
এর মাঝে একমাত্র সুন্দরীদের আড়চোখে দেখা আর দুই সঞ্চালক মনে একটু ভালো লাগা সঞ্চালন করল। মীর আর শাশ্বত। মাধুরিদেবী মঞ্চে আসা পর্যন্ত ওদের সুক্ষ এবং স্থূল মজাতেই যা একটু নিশ্বাস প্রশ্বাস নিলাম আর কি। মাধুরীর রূপে মুগ্ধ হতে হতে ভাবছিলাম, আচ্ছা এনার তো কোনো গ্ল্যামারাস পোশাকের দরকার হয় না। পুরো প্যাকেজটাই এত গ্ল্যামারাস যে কিছু না পড়লেও চলে। স্বচক্ষে মাধুরীকে দেখে নিজের এবং বৌএর জন্মস্বার্থক করে যখন এক্সিট লেখা দরজার দিকে এগোলাম, যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। পুরনো বন্ধু প্রেমার সঙ্গে দেখা করে বৌকে বগলদাবা করে মুক্ত আকাশের নিচে দাড়িয়ে কী আনন্দই না হলো। কারো কারো মত গ্রীনরুমে গিয়ে মাধুরীর সঙ্গে ফটো তোলার শখ ভাগ্যিস ছিল না। নয়তো ব্যর্থ মনোরথে ফিরে আসতে হত।
গাড়িতে উঠতে উঠতে মীরের একটা কথাই মনে লেগে ছিল। ও মজা করছিল বটে, কিন্তু আমার ওটাই সত্যি মনে হলো। 'এই অডিটোরিয়াম এ যারা এই অনুষ্ঠান দেখতে এসেছে তাদের কোনো কাজ নেই। নয়তো কেউ শখ করে পাঁচ ঘন্টা এভাবে বসে থাকতে পারে এই ভর সন্ধ্যেবেলায়!'
সত্যি মাইরি! নিকুচি করেছে এহেন 'সামাজিক' হওয়ার চেষ্টার।
(পুনশ্চ: ধন্যবাদ রিয়া, এত মিষ্টি করে ডাকার জন্য।)
যাই হোক সব বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে অনুষ্ঠান শুরুর প্রায় আড়াই ঘন্টা পরে পৌছালাম সায়েন্স সিটিতে। পরিচিত আয়োজকরা রাস্তা বাতলে দিল। লাল কার্পেট ধরে যেতে হবে। চোখ ধাঁধানো আলো চারিদিক থেকে এসে পড়ছে মুখে। চোখ খুলে রাখাই দায়। আলো আর লাল কার্পেট দেখেই মনে পরে গেল যে ভুলটা করেই ফেলেছি। নিমন্ত্রণপত্রের একটি ছোট্ট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশটা উপেক্ষা করে গেছি। লেখা ছিল: পোশাক: গ্ল্যামারাস। লাল কার্পেটের ওপর দিয়ে হেঁটে যেতে হলে যা পোশাক দরকার তা আমার নেইও আর অত 'ফর্মাল' হয়ে আমার কোথাও যেতেও ইচ্ছে করে না। যে কারণে সেনাবাহিনীর ভোজসভাতে যাওয়ার ইচ্ছেই প্রকাশ করি না। লাল কার্পেট পর্যন্ত এসে যখন পড়েছি আর তাও আবার বৌএর হাত ধরে, তখন ফেরার কোনো উপায় নেই। অগত্যা নিজের ভিতরের সমস্ত স্মার্টনেস কে সম্বল করে এগিয়ে চলা আর টুক করে বসে পরা ভিতরে গিয়ে।
এসব অ্যাওয়ার্ড দেওয়ার অনুষ্ঠান সত্যি বলতে কি টিভি ছাড়া অডিটোরিয়াম এ বসে দেখার সৌভাগ্য কখনো আমার হয়নি। আর চারপাশে সেলেব্রিটিদের দেখে ঠিক বুঝতে পারছিলাম না তালে তাল মিলিয়ে কখন ঠিক হাততালি দিতে হবে বা কখন দিতে হবে না। কখন প্রাণ খুলে হাসতে হবে বা শিলাজিতের গানে গলা মেলানো যাবে কিনা। খুব পছন্দের গায়ক বা অভিনেতা-অভিনেত্রীকে দেখে ঠিক কতটা উত্তেজনা প্রকাশ করা উচিত - এসব বোঝা কঠিন। নিজের আসনে বসার কিছুক্ষণের মধ্যেই বুঝে গেলাম যা করার করে ফেলেছি এবার চেপে বসে থাকতে হবে। তবু 'মুখ তো দেখিয়েই দিয়েছি রিয়াকে, এবার বেরিয়ে গেলে হয় না' - প্রস্তাবটি আমার সহধর্মিনীর সামনে রাখতেই ওর মুখের চেহারা বদলে গেল। থমথমে হয়ে উঠলো প্রথমে আর তারপর চাপা অথচ ঝাঁঝালো স্বর নিক্ষেপ। উত্তর এলো, 'তোমার যেতে হলে যাও, আমি পুরো অনুষ্ঠান দেখে একাই ট্যাক্সি নিয়ে বাড়ি চলে যাব। এসেছি যখন মাধুরীকে দেখেই যাব।' এটাই আসল ব্যাপার আর কী। বর চুলোয় যাক, মাধুরীর মধু টপ প্রায়োরিটি। উপায় না দেখে আমার সেই আলতো হাসি মুখে ছুঁইয়ে অনুষ্ঠান উপভোগ করার চেষ্টায় মনোনিবেশ করলাম। ধকধক গার্ল আসুক। তাকে দেখার জন্যই বসে থাকি। অভিজিত রেকর্ডেড গানের সঙ্গে শুধু ঠোঁট নাড়িয়ে চলে গেল। নুসরাত এক জায়গায় দাড়িয়ে কোমর নাড়িয়ে হাত পা ছড়িয়ে নেচে চলে গেল। মাঝে মাঝে পুরস্কার প্রদান। আর শিলাজিত ওটা গান গাইল না মিউজিক্যালি কথা বলে চলে গেল, বুঝতে বুঝতেই ঘন্টা দেড়েক কাটিয়ে দিলাম।
এর মাঝে একমাত্র সুন্দরীদের আড়চোখে দেখা আর দুই সঞ্চালক মনে একটু ভালো লাগা সঞ্চালন করল। মীর আর শাশ্বত। মাধুরিদেবী মঞ্চে আসা পর্যন্ত ওদের সুক্ষ এবং স্থূল মজাতেই যা একটু নিশ্বাস প্রশ্বাস নিলাম আর কি। মাধুরীর রূপে মুগ্ধ হতে হতে ভাবছিলাম, আচ্ছা এনার তো কোনো গ্ল্যামারাস পোশাকের দরকার হয় না। পুরো প্যাকেজটাই এত গ্ল্যামারাস যে কিছু না পড়লেও চলে। স্বচক্ষে মাধুরীকে দেখে নিজের এবং বৌএর জন্মস্বার্থক করে যখন এক্সিট লেখা দরজার দিকে এগোলাম, যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। পুরনো বন্ধু প্রেমার সঙ্গে দেখা করে বৌকে বগলদাবা করে মুক্ত আকাশের নিচে দাড়িয়ে কী আনন্দই না হলো। কারো কারো মত গ্রীনরুমে গিয়ে মাধুরীর সঙ্গে ফটো তোলার শখ ভাগ্যিস ছিল না। নয়তো ব্যর্থ মনোরথে ফিরে আসতে হত।
গাড়িতে উঠতে উঠতে মীরের একটা কথাই মনে লেগে ছিল। ও মজা করছিল বটে, কিন্তু আমার ওটাই সত্যি মনে হলো। 'এই অডিটোরিয়াম এ যারা এই অনুষ্ঠান দেখতে এসেছে তাদের কোনো কাজ নেই। নয়তো কেউ শখ করে পাঁচ ঘন্টা এভাবে বসে থাকতে পারে এই ভর সন্ধ্যেবেলায়!'
সত্যি মাইরি! নিকুচি করেছে এহেন 'সামাজিক' হওয়ার চেষ্টার।
(পুনশ্চ: ধন্যবাদ রিয়া, এত মিষ্টি করে ডাকার জন্য।)

No comments:
Post a Comment